Blog Details

Image

04 Nov 2025

মাহদি হাসান রাহী

আজকে শেষ দিন

আজকে সকালে আম্মুর সাথে শেষ দেখা করে আসলাম। না মানে, এ জন্মের জন্য না। তবে constant দেখা হওয়ার streak টা ভাঙল আরকি। 

রাতে বাসায় ফিরে আম্মুকে দেখবনা…ভাবতেই খারাপ লাগছে।


নভেম্বর এর ৫ তারিখ আম্মুর জয়েনিং date। দীর্ঘ ছয় মাস পর আম্মু আবার তার চাকরিজীবনে ফেরত যাচ্ছেন। 

বহুদিনের একটা আলস্য ভাঙবে মনে হচ্ছে; এতদিন সব কাজ আম্মু করে দিতো - কাপড় ধোয়া, রান্না করা, ডায়েট প্ল্যান অনুযায়ী নিয়মিত খাবার রেডি রাখা। নিজের inner থেকে শুরু করে লম্বা জুব্বাটাও পর্যন্ত সব আম্মুকে দিয়ে ধোয়াতাম। 


আজকে এসব আলস্যের অবসান ঘটবে । হুমম…

sad লাগতেসে; অবশ্য লাগার ই কথা।

বাসায় ফিরে ব্যাগটা না রেখেই রান্না ঘরে যেয়ে আম্মুকে এক ঝলক দেখে আসাটা বোধহয় আর হচ্ছেনা।


সম্ভবত আজকে রান্না ঘরে গেলে আর আম্মুকে পাবোনা; যা পাবো - সব থালাবাটি গুছানো, চকচক করছে, চুলাটা একদম ফ্রেশ । 

কোনো ঝোল বা ডিমের খোসার কিছু অংশ লেগে নেই 


আচ্ছা! হলুদ মরিচের র‍্যাকের কি হবে? 


উমমম.. হলুদ মরিচ থাকবে, হ্যাঁ।

সাথে থাকবে কুমড়োর বিচি, সিমের বিচির পুটলি বা অনেক গুলো প্যাঁচানো ছোট ছোট কিছু কালোজিরা বা কিছু গরম মশলা তবে লং এলাচ আলাদা থাকবে।

কিছু রসুন খোসা ছাড়ানো ছিল, সেগুলো হয়তো আম্মু নিয়ে যাবেন সাথে। কারণ, কবে যে আবার রান্না বান্না হবে এই ঘরে তার ঠিক নেই।


গত পরশু আম্মু ২ কেজির এক প্যাকেট ব্রাউন আটা আনেন। আব্বু দেখে মৃদু চটেছিলেন এবং এত আটা আনার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।

কারণ তিনি তো চলেই যাবেন ফলে এসব পড়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে।


আম্মু কারণ বলেন সাথে এও বলেন যে তিনি এগুলো frozen করে রেখে যাবেন। 


ওহ: ভালো কথা। গত পনেরো দিন যাবত আম্মু একটা নতুন হ্যান্ডসেট এর জন্য আমাকে তাড়া দিচ্ছিলেন, আমি তখনই অতটা আমলে নেইনি। 

আম্মুতো নিজের জন্য কখনও এমন খরচ কখনও করেননা । তাই হয়তো! তবে আম্মুর অত তাড়া দেখে আমি অবশেষে ব্যাপারটা আমলে নিলাম। কিনে দিবো, দিবো করে আজ আম্মু শেষমেশ চলেই যাবে। অথচ দেইনি এখনো ।


ইশশ! কত দায়িত্বজ্ঞানহীন আমি। তবে বলে দিয়েছি, আমি কিনে কুমিল্লা দিয়ে আসব। এতে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। হয়তো আমি যে দায়িত্বজ্ঞানহীন সেটাই বুঝিয়ে দেন। 


এখন যে হ্যান্ডসেট টা ইউজ করেন, সেটা অবশ্য আমিই কিনে দিয়েছিলাম। নইলে এর আগে আম্মু স্মার্টফোন ব্যবহার করতেননা অতটা। অফিসিয়াল কার্যাদি ছাড়া।


সমাজবিজ্ঞান চত্বরে বসে লিখছিলাম । নাহ! আগে ভাবছিলাম। তারপর লিখতে শুরু করলাম। ক্লাস ব্রেকের মাঝেই।

ও হ্যাঁ! ৯.৪৫ টা বাজছে। ১০টায় আরেকটা ক্লাস আছে। এবার উঠতে হচ্ছে।

আচ্ছা! এখন আম্মু কি করছে? ব্যাগ গুছাচ্ছে? নাকি আমাদের মনে করছে? নাকীইইইইই… উমমম… বুঝতেছিনা, যাই!